খাওয়া-দাওয়ার রাজনীতি আর ইয়াং বেঙ্গল
থালার ওপর রাষ্ট্র চেপে বসা-মাত্রই গেরুয়া ফ্যাসিবাদ সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছে। এই লেখা সেই “ঢুকে পড়বার” খবরাখবর দেয়—গোরক্ষার নামে ব্যাপক খুনোখুনি, “সনাতন” খাদ্যবিধির জবরদস্তি, আমিষ (বিশেষত গোমাংস)-ত্যাগের জোরজুলুম, আর সেই ভয়ের রাজনীতির বিপ্রতীপে হাজির হওয়া দুশো বছর আগের ইয়াং বেঙ্গল। ডিরোজিওর ছাত্র-সহযোদ্ধারা বউবাজারের গলিতে গরুর হাড় ছুঁড়েছিলেন। প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে “শুদ্ধতা”-র চাপিয়ে দেওয়া নির্মাণ আদৌ কোনো যৌক্তিক নৈতিকতার মানদণ্ড নয়, স্রেফ গোঁড়াদের সীমানা আঁকার তকনিক; গরু “মা” হয়ে ওঠা আর দলিত-মুসলমানকে বাইরে ঠেলে পিষে দেওয়া সেই একই খ্যামতা-দেহের যন্তর-তন্তর-মন্তর। বাংলার রান্নাঘর (সমসত্ব বর্গ নয়) কিছুদিন আগেও ছিল বহুস্বরের পরিসর; এখন সেখানে সঙ্ঘী সেন্সরেরা উঁকি মারে ইতিউতি। লেখার পরিশিষ্টে ব্যঙ্গপত্র আর বিফ-বাফ রপ্তানির হিসেব মিলে যায়—রাতে গোমাতা, দিনে মহিষমাংসের ডলার। ডিরোজিয়ানদের সেই উঠোনে ছুঁড়ে দেওয়া গো-হাড়টা আজও তাই মাটিতে পড়েনি। ওটা প্রশ্ন। প্রশ্ন ফিরে ফিরে আসে।
Copy and paste this URL into your WordPress site to embed
Copy and paste this code into your site to embed